গাপ্পি মাছ পালনের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা – Ekhaneishop.com – Latest Fashion, watches, electronics | BD Online shopping

গাপ্পি মাছ পালনের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

complete-guide-to-guppy-fishing

গাপ্পি মাছ পালনের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

February 24 · Public

যারা রঙ্গিন বা বাহারি রঙের মাছ পালনে নতুন অথবা যারা এটাকে শখ হিসেবে ধরে পালেন তাদের জন্য গাপ্পি মাছ একটি সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় জাত।

তারা অ্যাকুরিয়ামে অনেক রঙের সমাহার ঘটায়, এরা শান্তিপূর্ণ, বেশ সস্তা (জাত ভেদে) এবং এদের লালন-পালন করাটাও বেশ সহজ।
এই লেখায় আমরা গাপ্পি মাছ পালনের কিছু বিষয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করবো। যেমনঃ কিভাবে এদের যত্ন নিতে হবে, এদের সবচেয়ে ভালো খাবার, বাসস্থান এবং অ্যাকুরিয়ামে এদের সাথে অন্য কোন ধরণের মাছ রাখা যায়, কিভাবে এদের প্রজনন করানো যায় এবং আরোও বেশ কিছু বিষয়।

আরোও গভীরে যাবার আগে নিচের টেবিলটি দেখলে আপনি হয়তো বুঝতে পারবেন যে গাপ্পি মাছটি আসলেই আপনার পছন্দের কিনা।

গাপ্পি মাছের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

গাপ্পি মাছ মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় দক্ষিণ আমেরিকার মিষ্টি পানির মাছ। এরা পোকিলিডিড জাতের অন্তর্ভূক্ত।
গাপ্পি মাছের প্রায় ৩০০ এর মতো জাত আছে। প্রত্যেক জাতের রং, আকার, শরীরের গঠন, লেজের আকার আলাদা।

এদের নামকরণ হয়েছে Robert John Lechmere Guppy এর উপরে যিনি ১৮৬৬ সালে ত্রিনিদাদে এদের খুঁজে পেয়ে বিশ্বের সামনে একটি নতুন মাছের জাত হিসেবে পরিচয় করান।
এরা মিলিয়নস মাছ (এদের অতিমাত্রার প্রজনন হারের জন্যে) এবং রেইনবো মাছ (এদের বিভিন্ন রঙের কারণে) নামেও সারা বিশ্বে পরিচিত।

সুন্দর রং এবং এদের অ্যাকুরিয়ামে সক্রিয় উপস্থিতির কারণ ছাড়াও এদের মশার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়ে আসা হয়েছিলো। তবে কিছুক্ষেত্রে এই মাছের মুক্ত পানিতে ছেড়ে দেয়ার নেতিবাচক ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।

গাপ্পি মাছের স্বভাবঃ

এরা শান্তিপূর্ণ মাছ এবং একসাথে থাকতে পছন্দ করে। এরা সক্রিয় সাতারু এবং প্রায় সবসময় সাঁতরে বেড়ায়। আপনি প্রায়ই দেখবেন পুরুষ মাছটি মেয়ে মাছের পিছনে পিছনে ছুটছে এবং তাদের পিছনের লেজ নাড়াচ্ছে যাতে মেয়ে মাছটিকে প্রজননে প্রলুব্ধ করতে পারে। আর যদি দেখেন মাছ বেশিরভাগ সময় লুকিয়ে আছে তাহলে ধরে নিবেন আপনার মাছ পরিছ্রান্ত বা অসুস্থ।

গাপ্পি মাছের চেহারাঃ

যেমনটি এই লেখায় আগেও বলা আছে যে, গাপ্পি মাছ বিভিন্ন আকৃতির লেজের সাথে বিভিন্ন রং এবং মাপের হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক পরিবেশে মেয়ে গাপ্পি মাছ সাধারণত ধূসর আর পুরুষ গাপ্পি মাছ বিভিন্ন রঙের স্ট্রাইপস, স্পটস আর স্প্ল্যাশেসসহ হয়ে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন জাতের প্রজননের কারণে অ্যাকুরিয়ামের অনেক জাত ইতিমধ্যে আছে যেগুলোর রং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উজ্জ্বল হয় এবং এদের লেজের আর দেহের আকারে ভিন্নতা আসে। এমনকি আজও নতুন নতুন জাতের প্রবর্তন করা হচ্ছে।

পুরুষ মাছগুলো সাধারণত ০.৬ – ১.৪ ইঞ্চির মাঝামাঝি আর মেয়ে মাছগুলো সাধারণত ১.২ – ২.৪ ইঞ্চির মাঝামাঝি হয়ে থাকে। এদেরকে দেখলেই ছেলে-মেয়ে প্রজাতি আলাদা করা যায়।

গাপ্পি মাছে রংঃ

এরা প্রায় সবধরণের রঙ্গেই আসে, আর সে জন্যেই এদের আরেকটি নাম রেইনবো মাছ। এদের সাধারণত পিঠের উপরের অংশ এবং পিঠের উপরে পালকের রং কিছুটা হালকা রঙের হয় আর পিছনের ও লেজের অঙ্গশের রং খুবই উজ্জ্বল এবং আকর্ষনীয় হয়। এদের কিছু জাত দেখতে অনেকটা ধাতব রঙ্গেরও হয়ে থাকে, যেটা আলো প্রতিফলিত করতে পারে।

প্যাটার্ণঃ

কিছু জাতের শরীরের রং খুবই সুন্দর এবং উজ্জ্বল হয়। কিছু আবার শরীরের রঙের সাথে মিল থাকে।

উদাহরণ স্বরূপঃ

কোবরাঃ ভার্টিকাল ব্যারিং এবং লেজ গোলাপ আকৃতির হয়ে থাকে।

স্নেকস্কিনঃ চেইন-লিংক প্যাটার্ণ এবং লেজ গোলাপ আকৃতির হয়ে থাকে।

টাক্সিডোঃ সামনের অর্ধেক এবং পিছনের অর্ধেক ২টি ভিন্ন রঙের হয়।

আবার কিছু জাতের লেজের খুবই সুন্দর এবং এর প্যাটার্ণ বিভিন্ন হয়। উদাহরণ স্বরূপঃ
গ্রাসঃ ঘাসের বিন্দুর মতো সূক্ষ সূক্ষ বিন্দু থাকে।

লেসঃ জালের মতো প্যাটার্ণ থাকে।

লেওপার্ডঃ চিতাবাঘের শরীরের দাগের মতো দাগ থাকবে।

মোজাইকঃ অনিয়মিত দাগ একটার সাথে আরেকটার সংযোগ থাকবে।

লেজের আকৃতিঃ

এই মাছের লেজের আকৃতির উপর ভিত্তি করে প্রচুর ভিন্নতা আছে। যেমনঃ
ফ্যান শেপড, ট্রায়ুঙ্গুলার শেপড, সোর্ড শেপড (ডাবল, টপ সোর্ড এবং বটম সোর্ড), ফ্ল্যাগ শেপড, স্পেড শেপড, রাউন্ডেড, স্পিয়ার শেপড, লায়ারটেইল, ইত্যাদি।

আদর্শ বাসস্থান ও অ্যাকুরিয়ামের অবস্থাঃ

গাপ্পি মাছের প্রাকৃতিক বাসস্থান হচ্ছে ট্রপিকাল আবহাওয়ায়, মানে একট উষ্ণ আবহাওয়ায়। তাই আপনাকে অ্যাকুরিয়ামেও একই রকমের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যান্য মাছের অ্যাকুরিয়ামের মতোই, সর্বদা নিশ্চিত করতে হবে যে অ্যাকুরিয়ামটি সঠিকভাবে সেটাপ করা এবং সাইক্লিং করা। ঠিকভাবে সাইক্লিং করা অ্যাকুরিয়ামে বেনেফিসিয়াল ব্যাকটেরিয়া থাকে যা অ্যাকুরিয়ামের পানিতে থাকা মাছের জন্য ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে কম ক্ষতিকর উপাদানে রূপান্তরিত করবে।

বেশিরভাগ অ্যাকুয়ারিস্টরা গাপ্পি মাছ পালনের জন্য সবচেয়ে ছোট সাইজের অ্যাকুরিয়াম বলতে ৫ গ্যালন বা ১৯ লিটার বোঝান, তবে ১০ গ্যালন বা ৩৮ লিটার সাইজের অ্যাকুরিয়াম ব্যবহার করার অনুরোধ থাকলো।

একসাথে অনেক মাছ রাখলে অবশ্যই পানি ভালো রাখার জন্য ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে যেটা একই সংগে মেকানিকাল ও বায়োলজিকাল ফিল্ট্রেশন করতে পারে। সেক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামের সাইজের উপর ভিত্তি করে ফিল্টার নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত যতটুকু পানি তার ৫ – ৬ গুণ বেশি পানি প্রতি ঘন্টায় ফিল্টার করতে পারে এমন ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।

পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা মাছের জন্য অনেক বড় একটি বিষয়। সবসময় পানির তাপমাত্রা ২৭-২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রাখলে ভালো। এরজন্যে অ্যাকুরিয়ামের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হিটার এবং পানির তাপমাত্রা জানার জন্য বিশেষভাবে তৈরি থার্মোমিটার ব্যবহার করতে হবে। গাপ্পি মাছ পিএইচ (pH) মাত্রা ৫.৫ – ৮.৫ পর্যন্ত সহ্য করতে পারে তবে এদের জন্য পানির পিএইচ (pH) মাত্রা ৭.০ – ৭.২ রাখলে সবচেয়ে ভালো।

অ্যাকুরিয়ামের সেটাপ কি উদ্দেশ্যে মাছ রাখতে চান সেটার উপরে নির্ভর করে। যদি শুধু পালার উদ্দেশ্যে হয় তাহলে এক রকম সেটাপ আর যদি কমার্শিয়ালি ব্রিডিং এর উদ্দেশ্যে হয় তাহলে সেটাপ অন্য রকম হবে।

শখের উদ্দেশ্যে সাজানো অ্যাকুরিয়ামঃ এই ক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামে গাছ, পাথর এবং এর সাথে সাবস্ট্রেট হিসেবে বালি বা জিরো সাইজ ক্র্যাশড স্টোন ব্যবহার করা যায়। গাপ্পি মাছ সাধারণত অ্যাকুরিয়ামের মধ্য এবং উপরের অংশে থাকে।

ব্রিডিং এর উদ্দেশ্যে সাজানো অ্যাকুরিয়ামঃ এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হলো বেয়ার বটম ভাবে রাখা। তাতে অ্যাকুরিয়ামে জায়গা বেশি থাকবে এবং বাচ্চ দিলে সাথ সাথেই সেটাকে আলাদা করে রাখা যায়। সেক্ষেত্রে বাচ্চা লুকানো জন্য ভাসমান গাছ ব্যবহার করাটা ভালো। এই গাছগুলো পানি পরিষ্কার রাখতেও সহায়তা করে।

আগেও উল্লেখ করেছি যদি দেখেন যে মাছগুলো বেশিরভাগ সময় লুকিয়ে থাকে বা চুপচাপ বসে থাকে তাহলে হয় মাছেরা পরিশ্রান্ত অথবা অসুস্থ। কারণ, সাধারণত এরা খোলা জায়গায় সাঁতরাতে পছন্দ করে।

চেষ্টা করতে হবে অ্যাকুরিয়ামের সেটাপ ঠিক রাখার এবং নিয়মিত পরিষ্কার করার। এর সাথে খুব গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহে অন্তত ১ বার ২৫% পানি পরিবর্তন করা।

গাপ্পি মাছের অ্যাকুরিয়াম সংগীঃ

গাপ্পি মাছের অ্যাকুরিয়াম সংগী হিসেবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় হলো অন্যান্য জাত বা একই জাতের আরোও গাপ্পি মাছ। যারা এই মাছটি পালেন তারা অধিকাংশই পুরুষ মাছটির কারণে পালেন কারণ, পুরুষ মাছটি দেখতে খুবই আকর্ষনীয়। যদি প্রজননের উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে প্রায় সব মাছ পুরুষ রাখাই শ্রেয়। যদি পুরুষ ও মেয়ে দুই প্রজাতিই রাখতে চান তাহলে ১:২ হিসেবে রাখুন। প্রতি গ্যালন পানিতে ১ ইঞ্চি সাইজের মাছ ১.৫-২ টা রাখা যায়। তাহলে সর্বনিম্ন ৫ গ্যালনের অ্যাকুরিয়ামে ৭-১০ টা পর্যন্ত ১ ইঞ্চি সাইজের গাপ্পি মাছ রাখা যাবে।

এদেরকে মলি, প্লাটি, গৌরামি (ডোয়ার্ফ), সোর্ডটেইল, করিডোরাস, টেট্রা ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ কমিউনিটি মাছের সাথে রাখা যায়। বড় সাইজের মাছের সাথে না রাখাই ভালো। কারণ, বড় সাইজের মাছেরা ছোট সাইজের মাছেদের খেয়ে ফেলে। আবার কিছু কিছু বড় প্রজাতির মাছ আগ্রাসী হয়। কিছু টেট্রা প্রজাতিও আগ্রাসী হয়ে থাকে। এদের সাথে না রাখার অনুরোধ থাকলো। এরা গাপ্পির লেজ খেয়ে ফেলবে।

গাপ্পি মাছের খাবারঃ

মাছের খাবার তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি তাদের শরীরবৃত্তিয় কাজের উপর নির্ভর করে থাকে। এরা Omnivers, মানে এরা উদ্ভিদ ও প্রাণীজ দুই ধরণের খাবারই খেতে পারে। এরা নির্দিষ্ট খাবার পছন্দ করে না, বরঞ্চ প্রায় সবধরণের খাবারই খেয়ে থাকে, মশার লার্ভা পর্যন্ত।

এদেরকে যে কোন প্রকার ভালো মানের মাছের খাবার দেয়া যেতে পারে যাতে প্রোটিন বেশিমাত্রায় থাকবে। ফিলার ফিড ব্যবহার না করাটাই শ্রেয়। ড্রাই খাবারের পরিবর্তে ব্লাডওয়ার্ম, মাইক্রোওয়ার্ম, ফ্রোজেন চিংড়ি খাওয়ানো যেতে পারে। মাঝেমাঝে অর্ধসিদ্ধ মটরশুঁটি, লেটুস পাতা ও শসা দেয়া যেতে পারে। প্রতিদিন ২ বার খাবার দেয়া যেতে পারে এবং পরিমাণ এমন হলে ভালো যাতে মিনিট ২ এর মধ্যে খেয়ে শেষ করে ফেলে।

মাছকে শুধুমাত্র ১ ধরণের খাবার না দিয়ে ভিন্ন ধরণের খাবার দেয়া ভালো। এতে মাছের শরীরের পুষ্টির পরিমাণ ঠিক থাকে। ড্রাই খাবার, লাইভ খাবার বা ফ্রোজেন খাবার, অর্ধসিদ্ধ সবজি একেরপর এক বিকল্প হিসেবে খাওয়ালে ভালো। যেমনঃ সকালে ড্রাই খাবার দিলে রাতে বিকল্প কোনো খাবার দেয়া ভালো। আবার যদি মাছকে অতিরিক্ত খাবার দেয়া হয় সেটা মাছের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর এবং এটা পানির মানও খারাপ করে ফেলে। খাবার দেয়ার নিয়ম অনুযায়ী কোনো খাবার অ্যাকুরিয়ামে অবশিষ্ট থাকবে না।

যদি থাকে তাহলে নেটের ব্যাগ জাতীয় কিছু ব্যবহার করে সেটা সরিয়ে ফেলা উচিৎ, অ্যাকুরিয়ামের নিচে চলে যাওয়ার আগেই। যদি অ্যাকুরিয়ামে মাছের বাচ্চা থাকে তাহলে তাদেরকে খাওয়ানোর ব্যাপারটাও চিন্তা করতে হবে। তাদের অল্প পরিমাণে বার বার খাবারের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে খাবার যথা সম্ভব গুড়ো করে দিলে ভালো। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৪ – ৫ বার খাবার দিতে হবে।

গাপ্পি মাছের প্রজননঃ

এরা পাগলের মতো বংশবৃদ্ধি করে। এরা এই বিষয়ে মোটেও লাজুক না, বরং কোনো ধরণের সাহায্য ছাড়াই এরা প্রজনন করে। এদের প্রজননের অনেক উপায় আছে। এরা ovoviviparous, যার মানে হলো এরা এদের পেটের ভিতরে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা কিছুটা বড় করে সেগুলো ছাড়ে। ডিমের মুল অংশটা বাচ্চারা তাদের পুষ্টির জন্য গ্রহন করে এবং পুরো ডিমটি শোষণ করার পর মেয়ে গাপ্পিটির পেটে বাচ্চারা কিছুটা বড় হয় এবং এরপর অল্প কয়েকদিন পরেই বেরিয়ে আসে।

এদেরকে নারী-পুরুষে আলাদা করা খুবই সহজ যখন এরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায় ৩ – ৪ মাসের মধ্যে। বেশ কিছু লক্ষণ নিচে দেয়া হলঃ
রংঃ পুরুষ গাপ্পি মাছ সাধারণত মেয়েদের চেয়ে দেখতে অনেক সুন্দর, উজ্জ্বল এবং ভিন্ন রং এর হয়।
পায়ুপথের পাখনাঃ পুরুষ গাপ্পির পায়ুপথের পাখনাকে gonopodium বলে। এটা মেয়ে গাপ্পির চেয়ে আলাদা, দেখতে লম্বা এবং চিকন।

সাইজঃ পুরুষ গাপ্পি মেয়ে গাপ্পির চেয়ে সাইজে ছোট হয়।

গ্রাভিড স্পটঃ মেয়ে গাপ্পির মলদ্বারের পেছনে একটি গাঢ় স্পট থাকে যা গর্ভাবস্থায় গাঢ় হয়ে যায়।

একবার মিলনের পরে মেয়ে গাপ্পির পেটের ভ্রূণ থেকে ডিমে পরিণত হতে ৮ – ৫ দিন সময় লাগে। এরপরে প্রায় ২০ – ৩০ দিনের মধ্যে বাচ্চাগুলো মেয়ে গাপ্পির পেট থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর আবার ২০ – ৩০ দিনের মধ্যে মেয়ে গাপ্পি মাছ আবার বাচ্চা দেয় এবং এটা চলতে থাকে তাদের বাকি জীবনকালীন সময়ে।

প্রজননের সময় মেয়ে গাপ্পি মাছকে আলাদা রাখাই উত্তম কারণ এরা নিজেদের বাচ্চা নিজেরাই খেয়ে ফেলে। তাই ট্রাপ ব্যবহার করলে ভালো এবং এটা বড় সাইজের হলে ভালো যাতে মেয়ে গাপ্পি মাছের সাঁতার কাটার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। বাচ্চা হলে তারা ট্রাপের নিচের অংশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে। আর যদি প্রজননের জন্য আলাদা অ্যাকুরিয়াম ব্যবহার করা হয় তাহলে অ্যাকুরিয়ামে জাভা মস জাতীয় গাছ ব্যবহারের পরামর্শ থাকলো যাতে বাচ্চাগুলো গাছের ভিতরে লুকাতে পারে।

গাপ্পি মাছের সাধারণ রোগগুলোঃ

গাপ্পি খুব শক্তপোক্ত মাছ কিন্তু, এদের বড় লেজের কারণে ছত্রাক আক্রমনের শিকার হয় প্রায়শই। ইচ (ICH) এর মধ্যে অন্যতম। এই রোগ হলে মাছের সারা গায়ে সাদা স্পট পড়ে এবং কোনো সুক্ষ বা কোনাযুক্ত জিনিসে মাছকে গা ঘষতে দেখা যায়। ইচ থেকে মুক্তি পেতে থার্মোমিটার ব্যবহার করতে হবে এবং পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে রাখতে হবে।

এছাড়াও বাজারে এই রোগের ঔষধ পাওয়া যায়। এগুলো পানির পরিমাণের উপরে নির্ভর করে ব্যবহার করতে হয়। এদের ফিনরোট হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। এক্ষেত্রে এদের লেজের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি দেখা যায় লেজ ছিড়ে পঁচে যাচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে ফিনরোট হয়েছে। এছাড়া অ্যাকুরিয়ামে আগ্রাসী মাছ থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।

অ্যাকুরিয়ামে রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে হলেঃ

পানির গুণাগুন বজায় রাখুন, নিয়মিত পানি পরিবর্তন করুন, অ্যাকুরিয়ামের পরিচর্যা করুন, মাছের উপর চাপ পড়ে এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, ভিন্ন ভিন্ন খাবার দিন এবং একসাথে অতিরিক্ত পরিমাণে মাছ রাখা থেকে বিরত থাকুন।
আশা করি এই লেখা দ্বারা আপনি উপকৃত হবেন এবং আপনার মনের মতো গাপ্পি মাছ সমস্যা ছাড়াই পালতে পারবেন।
আমাদের সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ।

News source facebook

ALL Latest Job Circular

One thought on “গাপ্পি মাছ পালনের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Open Chat
1
Close chat
Hello! Thanks for visiting us. Please press Start button to chat with our support :)

Start

X